আষাঢ়ের গল্প | মাহাদী হাসান
কথায় আছে বিপদ আসলে সব একসাথে আসে
প্রচুর বেগে বৃষ্টি হচ্ছে অনেকক্ষণ
অপেক্ষা করার পরও বৃষ্টির জোর কমছে না
এদিকে আমার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে
দশ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাচ্ছে
যেকোনো সময়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে
যেতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করার সাধ্য আমার
নেই।
তাই দ্রুত বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
মাঝপথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিকূলে
চলে গেল
পথ এগোচ্ছে না।
একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে
কর্দমাক্ত পিচ্ছিল মেঠো পথ।
আমার পরিবহনের
দায়িত্বে থাকা পণ্য নিরাপদ ভাবে দ্রুত খালাস করতে হবে
তাই খুব সাবধানে পথ চলছি
যেকোনো সময় পা পিছলে
খালে পড়ে যেতে পারি
বৃষ্টির সাথে
ঝড়োহাওয়া বইছে
যেনো ছাতা সহ আমাকে
উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
কাছাকাছি কাউকে
দেখছি না
সিদ্ধান্ত হল আশেপাশের নিরাপদ কোন স্থানে পণ্য গুলো
আর ছাতা রেখে জঙ্গলে ঢুকে এতক্ষণ যা আটকে রেখেছি পাল তুলে বক্ষ উন্মুক্ত করে উদার
মনে ছেড়ে দেই
স্থানটি সম্পর্কে
না জানার কারনে আসন্ন বিপদ নিয়ে কিছু ভাবিনি।
যন্ত্রনাদায়ক
অপদার্থ গুলো অপসারণের প্রায় শেষ মুহূর্তে আরেকটি বিপদের পূর্বাভাস পেলাম।
সময় কম
একজন ঘোষক পুকুরের
অন্য প্রান্ত থেকে জোরে চিৎকার করে পার্শ্ববর্তী দেশ নোয়াখালীর ভাষায় সৈনিকদের
দ্রুত আক্রমণের ঘোষণা দিলো।
ঘোষণার বানীটি হল
“ও মাগো
ওরে আমেনা,
তাড়াতাড়ি লাডি ল,
কোন বেক্কলে তর
বাআর কবরের উপর আগদো বইসে,
বেডারে দোড়াই ধর,
মাইনসেরে বোলা,
আয় হায়রে,
আল্লার নালত হড্ডো
বুলি,
তাড়াতাড়ি যা,
তোর জেডারে
বলাস্নানি”
ঘোষণা বাণী শোনা
মাত্র ছাতা আর বাজারের ব্যাগ নিয়ে কয়েকমাইল বেগে যে দৌড় দিতে হয়েছে তার পরিসংখ্যান
করিনি।
দ্রুত বাড়ি এসে
বাজারের ব্যাগ ফেলে সোজা পরিধেয় বস্র পুকুরে নেমে
কাদার নিচে সমাহিত করে পাপমোচন করে পুকুর থেকে উঠে এলাম।
বৃষ্টির কারনে কেউ
বাহিরে না থাকায় লোক চক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায় একটি বীরত্বগাঁথা সংগ্রামী দিবসের
ইতিহাস।
সেদিন পুকুর থেকে
উঠে আসার সময় ভেজা ছাইয়ের উপর পড়ে থাকা একটি বড় টসটসে পাকা মিষ্টি আম
পেয়েছিলাম।
কোন মন্তব্য নেই